
আমাদের এই জীবন অতি ক্ষুদ্র কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্বপ্ন আমাদের বিশাল। এই অল্প বা ক্ষুদ্র জীবনে সুন্দর, উন্নত এবং সুখি জীবনযাপন করতে কে ই বা না চায়। আর এ চিন্তা ধারা মাথায় রেখেই আমরা বাংলাদেশে চাকরি বা উন্নত জীবন গড়ার অনেক সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে বিদেশ পাড়ি দেবার জন্য স্বপ্ন দেখি। এ স্বপ্ন অনেক অংশেই আমাদের সফল হয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই আমরা বাংলাদেশীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে একটি ভাল অবস্থান করে নিয়েছি। বিশেষ করে যারা লন্ডন বা ইউরোপ এবং আমেরিকায় অবস্থান করছেন তাদের জীবনের মান অনেক ভালই।
জীবনের প্রয়োজন মেটানোর জন্যই মুলত এই প্রবাসী হওয়া, যাহাতে একটি সুন্দর উন্নত এবং সুখি জীবন কাটানো যায়। অনেক ক্ষেত্রে যারা প্রবাসে গিয়েছেন তারা যদিও বিদেশে তবুও অনেকের মন কিন্ত এ দেশের মাটিতে বা হৃদয়ে সব সময়ই যেন বাংলাদেশ। কারণ আমরা প্রবাসী হই কেবল জীবনের কিছু প্রয়োজন মেটানোর জন্য কিন্তু জীবন চলার পথে কিন্তু বাংগালী।
জীবনের পথ চলতে চলতে প্রবাসীরা অনেক ক্ষেত্রে দেশে ঘন ঘন আসেন কিছু দিন দেশে প্রবাসীর মত এসে কিছুটা এই প্রবাস জীবন এর পরিশ্রম ভুলে থাকতে এবং মনকে কিছুটা হালকা করতে। এ ভাবেই জীবন চলতে থাকে এপার থেকে ওপারে ভ্রমণ করে।
জীবন চলতে চলতে অবশেষে কোন একদিন এই প্রবাসী চলে আসতে চায় দেশের এই মাটিতে এই মাটির টানে। ইহা আমার ব্যক্তিগত কোন অভিজ্ঞতা নয় বরং ইহা অনেক প্রবাসীরই জীবনের শেষ দিকে একটি স্বপ্ন। কারণ আমাদের এই জীবনতো স্থায়ী নয় আমাদের চলে যেতে হবে পরকালের জীবনে। আর এই চলে যাবার সময় অনেকেই চায় যদি এই যাত্রা নিজ জন্মভূমি বা মাতৃভুমি থেকে হয়। জীবনের শেষ দিকে মানুষ চায় কিছুটা ক্লান্তহীন সময় কাটাতে। আর এই সময়টা যদি নিজ দেশে, গ্রামে বা পাড়া প্রতিবেশী নিয়ে হয় এর চেয়ে সুখের সময় আর কি হতে পারে -?
নিজের দেশ আর জন্মভূমি মানুষের কাছে এক অফুরন্ত ভালবাসার কেন্দ্রবিন্দু। শুধু টাকা হলেই যে হল তা নয়, মানুষ চায় এই টাকার পাশাপাশি কিছু সুখ, আর মন যেখানে সুখ পায় সেখানেই অবস্থান করতে। এতে করেই অনেক প্রবাসীর স্বপ্ন থাকে জীবনের শেষ সময়টুকু যদি নিজের দেশের মাটিতেই কাটানো যায়।
প্রবাস জীবন কাটাতে কাটাতেই কোন এক সময় যখন এই প্রবাসে ব্যবসা বানিজ্য করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে লোকসান দিয়ে ইচ্ছে হল কিছু দিনের জন্য বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে যেতে। মন যেন কোন এক কারণে এই প্রবাস জীবন সইতে পারছে কারণ সময়ও কিন্তু অনেক হয়ে গেছে এই প্রবাসে। সকাল উঠে কাজে যাওয়া বাসায় ফিরে কিছু বিশ্রাম তারপর ঘুম। ঘুম থেকে উঠে সকালে আবার কাজে, এই একঘেয়েমি জীবন যেন আর ভাল লাগছে না তাই মন চাইছে কিছু পরিবর্তন। তাই ইচ্ছে হয়ে গেল দেশে গিয়ে একটু দ্বীর্ঘ সময় কাটানোর।
ধেরি না করেই আসা হল নিজ দেশে, নিজ জন্মভূমিতে গ্রাম বাংলায়। বাংলাদেশের মাটিতে আসলে আমার শহরের জীবনের চেয়ে এই সুন্দর সুজলা সুফলা বাংলার অপরুপ প্রকৃতিই বেশি পছন্দ, তাই গ্রাম বাংলায় ছুটে আসি। এই বার দেশে আসার পেছনে তেমন কোন উদ্দেশ্য নেই তবে একটু লম্বা সময় কাটানোর ইচ্ছে। আর এর মাঝে যদি নিজের দেশকে ভিন্ন ভাবে দেখি বা নতুন কিছু আবিষ্কার করি তবে মন্দ হবে না।
আমরা মূলত বিশ্বাস করি যে, আমাদের এই বাংলাদেশে কিছু করার নাই বেকার সময় কাটানো ছাড়া। বেকারত্ব মানেই বাংলাদেশ এই দেশে কোন কাজ নেই আর কোন সফলতাও নেই। আমার মনে একটি ভিন্ন চিন্তা আসলো যে, কেন এমন মন মানসিকতা -? এর কি কোন সুযোগ নেই পরিবর্তনের -? তাই, কি পরিবর্তন করা যায় মন মানসিকতার এই একটা ইচ্ছে জাগলো মনের গহীনে।
কিছু দিন দেশে থাকার পর নিজের যে কিছু জমি রয়েছে তা একটু ঘুরে দেখলাম। অতীতেও আমার দাদা থাকাকালীন সময়ে দেখেছিলাম তবে তা ছিল ছোট্ট বেলার তাই কোথায় কি এখন আর মনে নেই। জমি দেখার পর শীতকালীন সময়ে ইচ্ছে হল কিছু সবজির চাষ করার। মনে মনে চিন্তা ভাবনা করলাম এবং অনেকের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ নিলাম। পরামর্শ অনেকেই দেয় কিন্তু তাদের মনে যেন সেই উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। তাদের কথা হল কি হবে এসব করে, কোন লাভ নেই, কোন কিছুই ভাল হবে না ইত্যাদি ইত্যাদি নেতিবাচক কথা৷ তবুও এসব শুনে আমার কেন জানি ইচ্ছে হল, চেষ্টা করে দেখিনা কেন? চেষ্টা করতে তো কোন দোষ নেই। ফসল চাষ করার পর তো দেখবো এর ভাল মন্দ আর একবার যদি খারাপই হয় আরও একবার করে দেখতে বাধা কোথায়। কথায়ও তো আছে “একবার না পারিলে দেখ শত বার “।
শুরু হল কিছু সবজির চাষ, ছোট বড় সবাই মিলে করা হল ভিন্ন ধরনের কয়েকটি সবজি চাষ। শীতের মৌসুমে যাহা হয় তা ই। একে একে রোপণ করা হল এর মাঝে আলু এবং ধনিয়া পাতাও সারি সারিতে হল। চাষ মোটামুটি ভালই হল অবশেষে, দেখে মন মোটামুটি ভরে গেল। কিছু দিন পর দেখতে পেলাম তা কিছু তরতাজা সবজিতে রুপান্তরিত হয়েছে। কিছু তো খাবো আর বাকি কিছু আমার ইচ্ছে হল দেখি যদি বিক্রি করা যায় তবেই নিজে যাহা খরচ করেছি তার কিছু অংশ উঠে যাবে। কিছু নিজের জন্য রেখে বাকি কিছু বিক্রি করলে ইহাতে ব্যবসায়ীক এক অভিজ্ঞতাও বাড়বে বঠে। তবে অবশেষে তেমন কিছু বিক্রি করা সম্ভব হয়নি কারণ এতে অনেকের তেমন উৎসাহ নেই। যাহা বিক্রি হয়েছে তাহা মুলত নিজে কিছু জোর দেয়ার কারণে। আবার কিছু ধনিয়া বিক্রি করবো করবো বলে অনেক নষ্ট করে ফেলা হয়েছে আবার কিছু অংশ ইঁদুরও খেয়ে ফেলেছে কারণ বাজারে তেমন মুল্য নেই বলে জমা করে রাখা হয়েছিল। তাই বেশি দিন থাকার কারণে এমনই হয়েছে। হয়তো এভাবে নষ্ট না করে ইহাকে ভাল ভাবে আরেকবার রোপণ করা যেত বা সস্তায়ও বিক্রি করা যেত।
এ কাজ গুলো করার সময় যতটুকু খরচ হয়েছিল তার কোন অংশও উঠেনি তবে এর জন্য দুঃখ নেই তবে একটু সচেতন বা হিসেব ঠিক রাখলে হয়তো কিছুটাও হতো। এই জন্য যে একটা চেষ্টা করেছি ইহাই হল একটা অভিজ্ঞতা যাহা আগামীতে কাজে লাগানো যাবে।
দেশে এবার অনেক দিন পর একটু বেশি সময় কাটানো হচ্ছে, তাই কিছু একটা না করলে যেন মন বসে না। অলস ভাবে সময় কাটানো যেন অনেকটা খারাপই লাগছে তাই আরও কিছু কি করা যায় সে জন্য মনে প্রশ্ন জাগছে। কি করি, কি করি, যেন হতাশাজনক ভাবে ভাবছি। আমাদের যে কিছু জমি আছে তার একটা খোজ নিয়ে দেখলাম। এই জমিতে তো ধান ছাড়া আর কিছুই হয়না, আর অনেক সময় ধানও যখন হয়না তখন যারা কৃষি করেন তাদেরও ক্ষতির হিসাব করতে হয়। আমাদের দেশে জমি মানেই যেন ধান চাষ কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় জমির মাঝে ধানও হয় না। তবে অন্য কিছু যে করা যায় তার চিন্তাও অনেকেই করেন না।
আমার মনে ইচ্ছে জাগলো দেখিনা কেন এই জমিতে ভিন্ন কিছু করে -! তাই অনেকের পরামর্শ চাইলাম। পরামর্শ কিন্তু বেশির ভাগই বরাবরের মতো নেতিবাচক। নতুন কিছু করতে কেউই যেন উৎসাহিত নয়, বেশির ভাগই বলেন হবে না, কিছু হবে না শুধু ক্ষতি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি তবুও হাল ছাড়িনি একটা কিছু করার ইচ্ছে হল এবং এর পরিপুর্ণতা যাতে হয় সেই বিশ্বাস নিয়ে এগুতে শুরু করলাম।
জমি একটাকে মোটামুটি অন্য ধারায় সাজাতে ইচ্ছে হলো। তাই মাটি কেটে জমি একটু উচু করে কিছু একটা করার প্লান করলয়াম। প্রথম স্তর হলো জমির জায়গাকে উচু করতে হবে কারণ বর্ষাকালে তা পানিতে তলিয়ে যায়। তাই মাটি কেটে একটা নির্দিষ্ট জায়গা উচু করা হলো। মাটি কাটাতে এখানে কিছু টাকা ব্যায় করতে হয়েছে এবং নিচু এক জায়গা থেকে মাটি তুলে আনা হল। এই নিচু জায়গা মাটি খননের ফলে মোটামুটি একটি ছোট পুকুরের মত হয়ে গেল। অনেকেই বলল যে ইহা লিজে বিক্রি করা যাবে ভবিষ্যতে অনেকে মাছ চাষ করার জন্য নিতে পারে।
অবশেষে মাটি কাটার শেষে জায়গা নির্দারণ হলো এবং বেশ উচু করা হলো যাহাতে বর্ষায় পানিতে তলিয়ে না যায়। উচু করতে অনেকেই না করেছেন তবে আমি উচু করতে ছিলাম অটল। কারণ যখন উচু হবে তাহলে অল্পের জন্য বর্ষায় পানি উটবে কেন?
এখন এখানে কি করা যায় তা নিয়ে শুরু হলো গবেষণা। বিশেষজ্ঞরা বেশির ভাগই নেতিবাচ। তাই অনেক জল্পনা কল্পনার পর এক সিদ্ব্যান্ত মনে মনে নিলাম যে, যদি মোটামুটি একটি সবজির বাগান করা যায়, যেখানে পাঁচ মেশালি সবজি থাকবে এবং পাশে পাশে ফুল গাছ। যাহা মোটামুটি একটা নার্সারির মতো বলা যায়। তাই এ ব্যাপারেও অনেকের ইচ্ছে বা পরামর্শ চাইলাম। তবে বেশির ভাগই বলেন এভাবে জমিতে করলে চুরি হয়ে যাবে এবং করাও কঠিন হয়ে যাবে। বরাবরের মতো নেতিবাচক কিছু চিন্তা ধারা এসে পড়লো যাহার কারণে দেখা যাচ্ছে হয়তো এ প্লানও পরিবর্তন করতে হবে। তবে আমার যাহা ইচ্ছে ছিল যদি একটা নার্সারির মতো কিছু করা যেত এখান থেকে ফল, ফুল, সবজি চাষ করে কিছু নিজের জন্য আবার কিছু চারা বিক্রিও করা যেত। তবে সব প্লান করে দেখা যাচ্ছে এ যেন স্বপ্ন বাস্তব কিছু নয়।
অনেক গবেষণা এবং চিন্তা ভাবনা করে অবশেষে এই মহা পরিকল্পনা বাদই পড়লো তবে আমি কিন্তু হাল এখনও ছাড়তে রাজি নই। তাই আরেকটি খেলা মাথায় আসলে যদি কিছু বৃক্ষ রোপণ করা যায় তবে দোষ কি। তাই আগেরই মতো কিছু মতামত আর পরামর্শের জন্য আবার মাঠে নামা হলো, দেখা যাক এবার কি হয়। কি গাছ লাগানো যায় কেমন হবে তাহার রোপণ কি ভাবে করতে হবে, কত দিনে বড় হবে এবং কতটুকু লাভজনক হবে বিক্রি করলে অনেক প্রশ্ন মনে মনে। বরাবরের মতই স্পষ্ট মতামত খুব কম লোকই দিয়েছেন। জমি বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে তাই অনেকের চুরি হবার ভয়।
অল্প কিছুদিনের ভিতরে শহরে যাওয়া হলো গাছ ক্রয় করার জন্য। বৃক্ষ রোপন করবো তাই মনে অনেক আনন্দও বঠে। আনাচেকানাচে গাছের নার্সারি অবস্য আছে শহরে, তাই কয়েকটি নার্সারি দেখলাম দাম যাচাই করার জন্য। সাথে তেমন কেউ ছিলেন না তবে দু এক জন ছিলেন সত্য বলতে তাদেরও তেমন অভিজ্ঞতা নেই গাছ কিনার ব্যাপারে। আর এক বিশেষ কথা হল কেউই কোন একটা ভাল জাতের গাছের পরামর্শ দেয়নি কারণ বেশির ভাগই এ ব্যাপারে নেতিবাচক তাই ভাল কোন উপদেশ নেই। অবশেষে নিজের মাথায় যা আসলো তারই উপর ভিত্তি করে কিছু গাছ কিনলাম এবং সিএনজি দিয়ে গ্রামে নিয়ে যাওয়া হলো।
গ্রামের বাড়ীতে বিকেলে পৌছার পর অনেকেই দেখে খুশি আবার নাখোশও। নাখোশ এই জন্য যে কি হবে এসব করে অযথা সময় নষ্ট। বাড়িতে আসার সাথে সাথেই গাছ নিয়ে যাওয়া হলো জমিনে। অবস্য সকালে ফোন করে বলেছি জায়গা ঠিক করে রাখার জন্য এবং গাছের লাইন সোজা করে রাখার জন্য। কারণ শুধু গাছ লাগালেই নয় এর মাঝে একটা সৌন্দর্যও আছে। জায়গার মাপ এবং সোজা রাখাতে কিছু গড়মিল হয়েছে তবে নিজে আবার বেশ কম করে ঠিক করেছি। যে লোক সোজা বা জায়গা গাছের জন্য খনন করেছে তেমন অভিজ্ঞ নয়, তাদের কিছু করাতে হলে সামনে বসে করাতে হবে। নিজে সামনে ছিলাম না বলেই কিছু ভুল হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় এক কথা আমি দেখেছি অনেকেই নতুন কিছু করতে ইচ্ছে করেনা তাদের মাঝে একটা ভয় কি জানি কি হয়ে যায় কিন্তু জানতে হবে আমরা শুধু যদি একঘেয়েমি ভাবে চলি তাহলেতো জীবনে নতুন কিছু শিখা হবে না -! দুনিয়া যখন অনেক কিছুতে এগুচ্ছে এর মাঝে উন্নত জ্ঞান এবং প্রযুক্তিও আছে আমরা কেন ভয়ে পেছনে থাকবো ? তাই বলতে হয় নতুন কিছু করো আর পুরানা ভুলি ছাড়ো। আগামীর পথে চলতে হলে সময়ের তালে তালে অবস্যই এগুতে হবে।
একে একে গাছ রোপন করা শুরু হলো, আজ সাময়িক ভাবে কিছু গাছ এনেছি যাহাতে কাজটা শুরু করা যায়। অল্প বয়সী আর সমবয়সী সবাই মিলে গাছগুলো রোপণ করা হলো। মাটির সাথে কিছু গোবার দেয়া হলো সার হিসেবে। গোবর দিতেও অনেকেই নিরুৎসাহিত তবুও দিলাম কারণ গাছ গুলো যেখান থেকে এনেছি তারা নিজেই বলেছে গোবর দিলে ভাল ছাড়া খারাপ হবার কিছু নেই।
গাছ রোপন করতে করতে অবশেষে ১০০ গাছ হয়ে গেল। সবই একই ধরনের গাছ এবং যে গাছগুলি রোপণ করেছি তা বড় হতেও অনেক দিন সময় লাগবে। বলা বাহুল্য গাছ লাগানোর আগে কোন গাছ ভাল হবে এ নিয়েও একটা সংশয় ছিল। কোন গাছ ভাল হবে তাও অনেকজন তেমন ভাল করে বলতে পারেনি। এক একজনের এক এক মত বা মতের মাঝে কোন মিল নেই। এ যেন এই কাজে একটা বাধা কাজ করছিল তবুও এসব না ভেবে যে গাছ অনেকেই মুল্যবান বলেছে সেটাই রোপণ করেছি অবশেষে, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে। বৃক্ষ রোপণ করতে বাধা থাকার কথা নয় শুধু যে সব কিছুতে নিজের লাভ খোজতে হবে তা কিন্তু নয়। যেমন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সঃ বলেছেন, “যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে অথবা কোনো শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে কোনো মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু ভক্ষণ করে, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা (দান) স্বরূপ গণ্য হবে। ’ (বুখারি, হাদিস: ২৩২০, মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৩/১২)। তাই একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি যাহাতে অর্জন করতে পারি সেই পথেই ছেড়ে দিলাম। তবে গাছ লাগানোর পরও অনেক মতামত শুনতে হয়েছে যে, গাছ গুলি বড় হতে অনেক সময় লেগে যাবে এবং এই গাছ মানুষও চুরি করে নিবে ইত্যাদি। তবুও আমি তেমন ভেঙে পড়েনি, গাছ চুরি হলেও কি আল্লাহর উপর ভরসা করে রাখলাম।
গাছ দেখাশোনার জন্য একজনকে বাছাই করলাম যাহাতে সে নিয়মিত দেখাশোনা করে এবং সময়ে সময়ে পানি দেয়। কারণ অন্যদিকে আরেকটি ভয় হলো গরু বা অন্যান্য পশু অনেক সময় গাছ খেয়ে ফেলতে পারে তবে নিরাপদ রাখার জন্য বেড়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভয় তবুও থাকে যদি কোন ভুলক্রমে গাছ গুলি নষ্ট করা হয় তাই একজন যাহাতে নিয়মিত দেখে তা নির্ধারণ করে রাখলাম। যে দেখাশোনা রাখে তাকেও দেখে অনেকেই বাজে কথা বলে এতে তার কাজের প্রতি অনেক ক্ষেত্রে অনীহা আসে আবার অনেকে হিংসাও করে যে কিভাবে ও এই দ্বায়িত্বটা পেল। এই হলো ব্যাপার, যে কোন দিকেই যেন অসুবিধা ছাড়া কিছু করা যায় না। এক এক সময় এক এক ঝামেলা লেগেই থাকে। কথায় আছে ” দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ” কিন্তু বাস্তবে এ সময়ে যেন এই দশ জনে এক কাজ করতে পারেনা বরং একে অন্যের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ লেগেই আছে। আর যে একটি দ্বায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে তাকে কিভাবে মালিকের কাছে খাটো করা যায় তা অনেকের কাছে একটা বড় ধরনের কাজ হয়ে থাকে।
কয়েক বছর পর গাছগুলি মোটামুটি অনেক বড় হয়ে গেছে। প্রথমে দু এক বছর একটু ভাল ভাবে নজর দিতে হয়েছে, যাহাতে গরু বা অন্যান্য গবাদি পশু নষ্ট না করে সে দিকে খেয়াল রাখা হয়েছে। তবে কিছুটা বড় আর লম্বা হবার পর এর জন্য আর চিন্তা করতে হয়নি। গাছ তার গতি পেয়েছে তবে এই গাছ গুলি যদি বিক্রি করতে হয় তা অনেক বছর লাগবে। বেশি বুঝতে গেলে যা হয় তাই হয়েছে, পরামর্শ নিতে নিতে শেষ পর্যন্ত বেশি সময়ের গাছে রোপণ করা হয়েছে। এখন অনেকেই বলেন এই গাছ, সেই গাছ কেন রোপণ করলানা তাড়াতাড়ি বড় হতো। কিন্তু যখন বলার সময় ছিল
তখন শুধু নেতিবাচক কথা ছিল। আর এখন অনেক সুন্দর সুন্দর কথা আর হরেক রকম গাছের কথা শোনা যাচ্ছে। আর সবচেয়ে মজার কথা হয়েছে আল্লাহর হুকুমে গাছ গুলি বড় হতে লাগলো কিন্তু আজও কোন গাছে চুরি হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ -!
সময় কালঃ ২০১৪-২০১৬
Leave a comment